তাজউদ্দীন আহমদ: নিঃসঙ্গ সারথি

Synopsis of the documentary Tajuddin Ahmad: An Unsung Hero

  • প্রামাণ্যচিত্র: তাজউদ্দীন আহমদ: নিঃসঙ্গ সারথি – Tajuddin Ahmad: An Unsung Hero
  • ধরন: জীবনীমূলক / ঐতিহাসিক / মুক্তিযুদ্ধ
  • ভাষা: বাংলা
  • দেশ: বাংলাদেশ
  • সাব-টাইটেল: ইংরেজি
  • দৈর্ঘ্য: ১০০ মিনিট
  • ফরম্যাট: ডিভি ক্যাম
  • নির্মাণকাল: ২০০৭
  • প্রযোজক: সিমিন হোসেন রিমি
  • পরিবেশনা: কিনো-আই ফিল্মস
  • গবেষণা, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা: তানভীর মোকাম্মেল
  • চিত্রগ্রহণ: আনোয়ার হোসেন
  • সম্পাদনা: মহাদেব শী
  • আবহসঙ্গীত: সৈয়দ সাবাব আলী আরজু
  • শব্দ: নাহিদ মাসুদ
  • ধারাভাষ্য: চিত্রলেখা গুহ
  • সহকারী পরিচালক: উত্তম গুহ, সারওয়ার তমিজউদ্দিন
  • সহকারী চিত্রগ্রাহক: এ. আর. স্বপন, দেবদাস সাহা (দেবু), সুপ্রিয়া দত্ত
  • সহকারী সম্পাদক: নূর হাজারী, মোহাম্মদ মানিক
  • সহকারী শব্দগ্রাহক: আবু সৈয়দ, পার্থ বর্মন
  • বাদ্যযন্ত্র: নিখিলকৃষ্ণ মজুমদার, আজিজুর রহমান বাবলু, মৃত্যুঞ্জয় দাস
  • প্রযোজনা সহকারী: সৈয়দ মোহাম্মদ মোতালেব, নিবাস চিসিম, আজিজুর রহমান রুস্তম, কল্যাণ পাত্র
  • কারিগরি সহায়তা: ক্র্যান্ডাসি প্রোডাকশনস, ইজু অডিও ভিজ্যুয়াল, অডিও ভিশন, মুভিটোন, টেলিহোম, ধ্রুব
বক্তৃতারত তাজউদ্দীন আহমদ।
বক্তৃতারত তাজউদ্দীন আহমদ।
১৯৭১ সালে তাজউদ্দীন আহমদ বুড়িমারি সীমান্ত ভিসা ও শুল্ক দপ্তরের উদ্বোধন করছেন।
১৯৭১ সালে তাজউদ্দীন আহমদ বুড়িমারি সীমান্ত ভিসা ও শুল্ক দপ্তরের উদ্বোধন করছেন।

সাক্ষাৎকার
আবু সাঈদ চৌধুরী — প্রাক্তন একান্ত সচিব
সিমিন হোসেন রিমি — কন্যা
জোহরা তাজউদ্দীন — স্ত্রী
বাহাউদ্দিন চৌধুরী — সহকর্মী
ব্যারিস্টার আমির-উল-ইসলাম — সহকর্মী ও আইনজীবী
ড. কামাল হোসেন — রাজনীতিবিদ ও আইনবিশেষজ্ঞ
ড. আবদুল করিম — বন্ধু
এ. কে. খন্দকার — এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.)
তোফায়েল আহমেদ — রাজনীতিবিদ
গোলক মজুমদার — আইজি, বিএসএফ
দলিলউদ্দিন আহমেদ খান — ভ্রাতুষ্পুত্র
ড. রেহমান সোবহান — অর্থনীতিবিদ
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (বীর বিক্রম) — সাবেক সচিব
ড. আনিসুজ্জামান — শিক্ষাবিদ
মঈদুল হাসান — সহকর্মী
মাহবুবউদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম) — সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা
আমিনুর রহমান — জেলার, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার
আবদুল মোত্তালিব — সহপাঠী
জালালউদ্দিন ফকির — সহপাঠী
আবদুস সামাদ — সহপাঠী
আরহাম সিদ্দিকী — সহকর্মী
হোসেন তৌফিক ইমাম — সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব

কৃতজ্ঞতা
বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি)
একুশে টেলিভিশন
ফিল্ম ডিভিশন, ভারত
বাংলাদেশ ফিল্ম ইনস্টিটিউট (বিএফআই)
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
মতিউর রহমান
মফিদুল হক
ড. আনিসুজ্জামান
মঈদুল হাসান
সাইফুর রহমান
মঞ্জারে হাসিন মুরাদ
তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী
নূহ-উল-আলম লেনিন
আনোয়ার হোসেন
প্রফেসর রফিকুল ইসলাম
মাহজাবীন আহমদ
তানজিম আহমদ
তাজ আই. চৌধুরী
খোন্দকার কামরুল হুদা
আবু জাফর
আফতাব আহমেদ
স্বদেশ রায়
সৈয়দ শাকিল আলী
ইকবাল আহমেদ
শারমিন আহমদ
এ. এম. রানা
এম. হোসেন
শামসুল আলম চৌধুরী
আনোয়ারা খাতুন
মাহফুজ কবির আহমেদ
এম. শহীদুল্লাহ
মোশাররফ হোসেন
Keivan Niksejel
কিবরিয়া
তাহমিনা
কাপাসিয়া পাইলট স্কুল
ভুলেশ্বর প্রাইমারি স্কুল
সেন্ট নিকোলাস হাই স্কুল
সেন্ট গ্রেগরিজ হাই স্কুল
ঢাকা মুসলিম বয়েজ হাই স্কুল

সারসংক্ষেপ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই ঢাকার অদূরে কাপাসিয়ার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

চল্লিশ দশকের বাঙ্গালী মুসলমান মধ্যবিত্ত যুবকদের স্বাভাবিক ধারায় মেধাবী ছাত্র তাজউদ্দীন আহমদ প্রথম জীবনে মুসলীম লীগের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করলেও অচিরেই এই দলের প্রতিক্রিয়াশীল ভূমিকা বুঝতে পেরে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন। প্রথমে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৫৫ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সুযোগ্য সহযোগী তাজউদ্দীন দলটির প্রতিষ্ঠা ও নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তাজউদ্দীন আহমদের জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সফল নেতৃত্ব দেয়া। ১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও বাঙ্গালীদের হাতে ক্ষমতা দেবার পরিবর্তে ১৯৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তান সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার ও বাঙ্গালীদের বিরুদ্ধে গণহত্যা শুরু করে। পাকিস্তানীদের বর্বরোচিত অত্যাচারে এদেশের প্রায় এক কোটি মানুষ শরণার্থী হয়ে ভারতের মাটিতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।

তাজউদ্দীনসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য নেতারা ভারতে যান এবং তাজউদ্দীন আহমদ তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। ১০ এপ্রিল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার গঠন করা হয় এবং ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে এই সরকার শপথ গ্রহণ করে। তাজউদ্দীন আহমদ বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

গড়ে ওঠে মুক্তিবাহিনী এবং দীর্ঘ নয় মাস চলে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। ৬ ডিসেম্বর ভারত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অবতীর্ণ হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী চূড়ান্তভাবে পরাজিত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর তারা ভারত-বাংলাদেশ যৌথ কমান্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করে। জন্ম নেয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত মন্ত্রীসভায় তাজউদ্দীন আহমদ অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী হন। আত্মপ্রচারবিমুখ তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সমন্বয়ে সৃষ্ট একজন বিরল রাজনীতিবিদ। কিন্তু বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য যে যিনি ছিলেন বঙ্গবন্ধুর সবচাইতে সুযোগ্য সহকর্মী, তাঁর সঙ্গেই বঙ্গবন্ধুর সম্পর্কে চিড় ধরে। তাজউদ্দীন আহমদ ১৯৭৪ সালের ২৬ অক্টোবর মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন।

১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট সেনাবাহিনীর একাংশের হাতে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হন। একই দিনে তাজউদ্দীন আহমদ বন্দী হন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর অন্যান্য আরো তিন জাতীয় নেতার সঙ্গে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতর তাজউদ্দীন আহমদ নৃশংসভাবে নিহত হন।