যোগেন কথা প্রামাণ্যচিত্রের জন্যে গণ-অর্থায়নের আহবান

যোগেন মন্ডল সম্পর্কে

১৯৪৭-র দেশভাগের আগে-পরে এদেশের রাজনীতিতে নিম্নবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে যোগেন মন্ডলের (১৯০৪-১৯৬৮) এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বরিশালের গৌরনদীর মৈস্তারকান্দি গ্রামে জন্ম নেওয়া যোগেন মন্ডল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসকে উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের রাজনৈতিক দল বলে মনে করতেন এবং বিশ্বাস করতেন যে এদেশের নিম্নবর্ণের দলিত হিন্দুদের বরং বেশী নৈকট্য রয়েছে এদেশের মুসলমান কৃষকদের সঙ্গে। ওঁর ভাষায় “আমার জমির আইল যার সঙ্গে রাজনীতি হতে হবে তার সঙ্গেই।” ওঁর এই বিশ্বাসে উনি এতটাই অনমনীয় ছিলেন যে প্রতিক্রিয়াশীল মুসলিম লীগের পাকিস্তানের দাবীকেও উনি সমর্থন করেছিলেন। এবং দেশভাগের সময় আসামের সিলেট জেলা যাতে পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয় সে জন্যে সিলেটের গণভোটে অনেক পরিশ্রমও করেছিলেন। যোগেন মন্ডলের চেষ্টাতেই ভারতীয় সংবিধান পরিষদের চেয়ারম্যান বাবাসাহেব আম্বেদকর ১৯৪৬-র নির্বাচনে যশোর-খুলনার তফশিলী আসন থেকে নির্বাচিত হতে পেরেছিলেন।

যোগেন মন্ডলের এই মুসলিম লীগ প্রীতি কী পুরোটাই আরেক বঞ্চিত সম্প্রদায় মুসলমানদের প্রতি সহমর্মিতা? নাকী পাকিস্তান রাষ্ট্রটা তৈরী হলে, ওঁর প্রতিপক্ষরা যেরকমটা বলে থাকেন যে, নিজের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ও পদ-পদবীর আকাঙ্খা ছিল ওঁর এসব কর্মকান্ডের নেপথ্যে? তো কারণ যেটাই হোক, যোগেন মন্ডল এদেশের রাজনীতিতে এক রহস্য-পুরুষ, কিছুটা বিতর্কিতও। কারণ পাকিস্তানের জন্যে লড়লেও এবং পাকিস্তানের প্রথম আইন ও শ্রমমন্ত্রী হলেও ওঁর সেই সাধের পাকিস্তানে যোগেন মন্ডল নিজে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর থাকতে পারেননি।

নিম্নবর্ণের তফশিলী হিন্দু ও মুসলমানদের যে ঐক্যের স্বপ্ন যোগেন মন্ডল দেখেছিলেন তা সাতচল্লিশের দেশভাগ ও ১৯৫০-য়ের দাঙ্গার আগুনে পুড়ে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছিল। উনি নিজেই এক সময় বলতে বাধ্য হয়েছিলেন যে “পাকিস্তান হিন্দুদের জন্যে এক অভিশাপ।” যে পাকিস্তানের জন্যে উনি এক সময় এত লড়েছিলেন ১৯৫০ সালের অক্টোবর মাসে সেই পাকিস্তান ছেড়েই যোগেন মন্ডল ভারতে চলে যেতে বাধ্য হন। তবে ভারতে যেয়েও উনি নানাভাবে লাঞ্চিত হয়েছেন। আসলে এক শুদ্রের এত বড় রাজনৈতিক নিরীক্ষা সহ্য করতে রাজী ছিল না উচ্চ বর্ণের হিন্দু সমাজ। ততদিনে ওঁর জনপ্রিয়তাতেও ধ্বস নেমেছে। ফলে শেষ জীবনটা যোগেন মন্ডলের বেশ দু:খ-বেদনাতেই কেটেছে। ১৯৬৮ সালে বেশ অসহায় অবস্থাতেই যোগেন মন্ডল পশ্চিমবঙ্গে মৃত্যুবরণ করেন।

যোগেন মন্ডলকে আমার গ্রীক নাটকের এক ট্র্যাজিক চরিত্র বলে মনে হয়। জাতীয় পর্যায়ের একজন সুযোগ্য নেতা হওয়ার সব রকম যোগ্যতা ও মেধা থাকা সত্ত্বেও নিয়তি, এক্ষেত্রে হয়তো সময়, যেন তার অনুকূলে ছিল না।

ব্যতিক্রমী এই রাজনীতিবিদ ও মানুষটাকে বুঝতে যোগেন মন্ডলকে নিয়ে আমি “যোগেন কথা” নামে গবেষণানির্ভর একটা প্রামাণ্যচিত্র তৈরী করছি।

“যোগেন কথা” প্রামাণ্যচিত্রটা সম্পর্কে তথ্যাবলী

  • প্রামাণ্যচিত্রটার দৈর্ঘ্য হবে দেড় ঘন্টা (৯০ মিনিট)।
  • প্রামাণ্যচিত্রটা নির্মাণ করতে সময় লাগবে আট (০৮) মাস।
  • প্রামাণ্যচিত্রটার জন্যে গবেষণা, ছবিটার চিত্রনাট্য রচনা ও ছবিটা পরিচালনা করবেন তানভীর মোকাম্মেল।
  • ২০২৫ সালের জুলাই মাস থেকে ছবিটার কাজ করু হবে।
  • ছবিটা নির্মাণে মোট ব্যয় হবে ষোলো লক্ষ টাকা (টা: ১৬,০০,০০০/-)।
  • ছবিটার জন্যে ব্যয়িত সকল অর্থ গণ-অর্থায়ন বা ক্রাউড ফান্ডিং-য়ের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হবে।

গণ-অর্থায়ন বা ক্রাউড ফান্ডিং-য়ে অংশগ্রহণের শর্তাবলী

  • যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ছবিটার জন্যে এক লক্ষ টাকা (টা: ১,০০,০০০/-) প্রদান করলে তিনি ছবিটার “নিবেদক” হতে পারবেন।
  • কেউ পঞ্চাশ হাজার টাকা (টা: ৫০,০০০/-) প্রদান করলে তিনি ছবিটার “সহ-নিবেদক” হিসেবে বিবেচিত হবেন।
  • কেউ বিশ হাজার টাকা (টা: ২০,০০০/-) প্রদান করলে তাঁকে “সম্মানীয় কৃতজ্ঞতা”, কেউ দশ হাজার টাকা (টা: ১০,০০০/-) প্রদান করলে “বিশেষ কৃতজ্ঞতা” এবং পাঁচ হাজার টাকা (টা: ৫,০০০/-) প্রদান করলে তাঁর নাম “কৃতজ্ঞতা” তালিকায় রাখা হবে। অর্থদাতা সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম “যোগেন কথা” ছবিটার টাইটেল কার্ডে প্রদর্শিত হবে।

অর্থ প্রেরণের নিয়ম

যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থ প্রদান করেেবন সেসব অর্থদাতার নাম ও অর্থের পরিমাণ অনুগ্রহ করে আমাদেরকে ই-মেইলে অথবা ফোনে মেসেজের মাধ্যমে জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে। আমাদের ই-মেইল ঠিকানা হচ্ছে tmokammel@gmail.com এবং টেলিফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর হচ্ছে +8801735-901328

অর্থ পাঠানোর ব্যাংক একাউন্ট নম্বর

Bank: Standard Chartered Bank
Account Holder’s Name: TANVIR MOKAMMEL
Account Number: 01 6728081 01
Swift Code: SCBLBDDX
Routing Number: 215261218
Branch Name: Dhanmondi, Dhaka, Bangladesh

অর্থ পাঠানোর বিকাশ ও নগদ নম্বর: +88 01927525364 (Personal)
অন্যান্য যোগাযোগের জন্যে টেলিফোন নম্বর: +8801735-901328

বিনীত
তানভীর মোকাম্মেল
চলচ্চিত্রনির্মাতা
ই-মেইল: tmokammel@gmail.com